cancer.জরায়ু ক্যানসার

জরায়ু ক্যান্সার কেন হয়?

নারীর স্বাস্থ্য, রোগ-ব্যাধি

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

(হেলথপাটনার.কম) জরায়ু মেয়েদের একটি বিশেষ  অঙ্গ। একটি স্পর্শকাতর অঙ্গ। মেয়েদের বাচ্চাদানির নিচের অংশটি হলো জরায়ু মুখ। এটি বাচ্চা প্রসবেন পথ। মেয়েদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জরায়ুর এ অংশটিতে ক্যান্সার হওয়ার আশংকা খুবই বেশি।হিউমান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV-16, 18) মূলত  জরায়ুর ক্যান্সারের জন্য দায়ী।  স্তন ক্যান্সার এর ন্যায় জরায়ুর ক্যান্সার এ আক্রান্ত রোগীর পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এক গবেষনায় দেখা গেছে যে শিল্পউন্নত দেশগুলোতে জরায়ু ক্যান্সারের ঝুকি সবচেয়ে বেশি। তবে আমাদের দেশ এক ঝুকির উর্ধ্বে নয়। তাই সচেনতা খুবই জরুরী। আজকাল এ টিকাও পাওয়া যায়।

জরায়ু ক্যান্সার
জরায়ু ক্যান্সার

লক্ষণসমুহ:

মেয়েদের সুস্বাস্থ্য রক্ষায় আজ আমরা জানবো জরায়ু-মুখ ক্যান্সার সাধারণ লক্ষণ সমুহ:

  • অতিরিক্ত সাদ্রাস্রাব বের হওয়া
  • সাদাস্রাবে অনেক দুর্গন্ধ থাকা ।
  • অনিয়মিত বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব হওয়া।
  • প্রায়ই সহবাস করার পর রক্তপাত ঘটা।
  • পিরিয়ড শেষ হবার পর অথাৎ সম্পূর্ণ ভালো হবার পর পুনরায় রক্তপাত শুরু হওয়া।
  • তলপেট –কোমড় কিংবা উড়ুতে অত্যাধিক ব্যথা করা।

 

কারা এ রোগের শিকার বেশি হয়? স্বাস্থ্য রক্ষায় আমাদের তা জানা খুবই দরকার। আসুন জানি…. তারা হলো

  • যাদের খুব কম বয়সে যৌনাচারে অভ্যস্ত হয়।
  • যাদের একের অধিক যৌন সঙ্গী
  • ঘন ঘন গর্ভবতী হওয়া।
  • বাল্য বিয়ের শিকার
  • যৌনাঙ্গ অপরিচ্ছন্ন থাকলে।
  • ১৮ বছরের নিচে গর্ভবতী হলে।
  • জনন অঙ্গের সংক্রমন এ

উপরোক্ত ব্যক্তির এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুকি অনেক বেশি।

জরায়ু মুখের ক্যানসার
জরায়ু মুখের ক্যানসার

এ রোগে আক্রান্ত হয় কখন?

জরায়ু মুখের ক্যান্সার খুব মারাত্মক বিষয় হয়ে দাড়ায় যখন আর তার চিকিৎসা করার সময় থাকেনা। এ রোগটি একদিনে বা একমাসে হয়না। ধীরে ধীরে জরায়ুর স্বাভাবিক কোষ থেকে ক্যান্সার কোষে পরিণত হয়। স্বাভাবিক কোষ থেকে ক্যান্সার হতে সময় লাগে প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর।

আমরা নিজেদের প্রতি অনেক উদাসিন, নচেৎ প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগের অস্তিত্ব ধরা পড়লে শতভাগ নিরাময় সম্ভব। কিন্তু প্রাথমিক যে উপসর্গ গুলা আলোচিত হলো সেগুলো দেখলে যদি একটু গুরুত্ব দেয়া হতো তাহলে অকালে হাজার হাজার প্রাণ ঝড়ে যেতনা। কিংবা অনেক ছেলে মেয়ে মা হারা হতো না। আমরা তো গুরুত্ব দেই যখন রোগটি জটিল পর্যায়ে চলে যায়। চলে আসে জীবন –মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ। তখন দরকার হয় বড় ধরনের জটিল অপারেশন ও রেডিও থেরাপি। কিন্তু এ বড় অপারেশন দ্বারাও তখন সম্পূর্ণরূপে নিরাময় সম্ভব হয় না। আজীবন এর রেশ টানতে হয়।

আমাদের এ দেশটিতে সবার তো আর সে পরিমাণ সামর্থ নেই যে কোন সময় যে কোন পরিস্থিতিতে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা চালাবো তাহলে আমরা যদি একটু সচেতন হই, নিজেদের প্রতি যদি একটু গুরুত্ব দেই তাহল তো আর সে পরিমাণ টাকা ব্যয় না করে সুস্থ থাকতে পারি। প্রতিটি নারী যদি নিজের খেয়াল রাখে, প্রতিটি পরিবার যদি পরিবারের সকল নারীদের প্রতি একটু যত্নবান হয়, তাহলে আমরা অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারি। নারীরা তো আমাদের দুরের কেউ নয়, এখানে একজন নারী একই সময়ে কারো মা, বোন, স্ত্রী।

জরায়ু-মুখ ক্যান্সার এ দেশে দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে এখনই যদি আমরা সচেতন না হই তাহলে একদিন তা মহামারী আকার ধারণ করবে। এ রোগটি কে প্রতিরোধ করতে হলে নিয়মিত  জরায়ুর মুখ পরিক্ষা করাতে হবে।

কি ভাবে কোথায় কখন এ পরিক্ষা করাবো এবং কি পরিক্ষা করাবেন?

কথায় আছে, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। নিজেদের ব্যাপারে একটু সচেতন হলে এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।

  • যাদের বিয়ে হয়েছে এবং তাদের যদি বয়স ৩০ হয়ে থাকে।
  • যে সকল মহিলার বয়স ৩০ বা তার বেশি
  • বাল্য বিবাহিত মেয়ের বয়স যদি ২৫ হয়ে থাকে ।

এ বয়সের মহিলারা/মেয়েরা প্রতি ৩ (তিন) বছর পর পর জরায়ুর মুখ পরিক্ষা করানো উচিত। জরায়ু-মুখে ক্যান্সার এর লক্ষন গুলো প্রকাশ না পেলেও ৩০ উর্ধ্ব মহিলাদের উচিত পরিক্ষা করানো। তাতে নিশ্চত থাকা যায়। আপনি পরিক্ষা করার জন্য স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ এর সাথে পরামর্শ করতে পারেন। অথবা স্বাস্থ্য কর্মী থেকেও পরামর্শ ‍ুনিতে পারেন।

জরায়ু ক্যান্সার এর পরীক্ষা:  ভায়া- VIA (Visual Inspection of Cervix with Acetic acid) ও

প্যাপ স্মেয়ার- (PAP smear)

পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ু-মখের ক্যান্সার নিরুপন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে এ পরীক্ষাগুলো সরকারী হাসপাতালে করা হয়ে থাকে। আসুন সবাই সচেতন হই। সচেতনতার জন্য কাজ করি। আজ আর নয়। ভালো থাকবেন সবাই।

নিজে ভালো থাকুন অন্যকে ভালো থাকতে সহযোগিতা করুন।

Leave a Reply