সংসারে সুখী হতে চান

সংসার জীবনে সুখী হতে চান কি?

লাইফস্টাইল

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

(হেলথপাটনার.কম) প্রতিটি মানুষের জীবনের পূণর্তা মিলে বিবাহের মাধ্যমে। প্রতিটি মানুষের জীবনে বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সংসার জীবনে সবাই ভালো এবং সুখী থাকতে চায়। কিন্তু কিছু দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সংসার জীবন হয়ে ওঠে ধুসর, দূর্বীসহ ওঠে সংসার জীবন, নরক যন্ত্রনা অনুভুত হয়। যা সত্যিই দু:খজনক।

বিয়ে করার পর মানুষের চলার গতিতে কিচুটা ভিন্ন পথে মোড় নেয়। কারো কারো একেবারে দৃশ্যপট পাল্টে যায়। সেটা নানা কারণে হয়ে থাকে –  কিছুটা দায়িত্ববোধ থেকে, কিচুটা ভালোবাসায়, কিচুটা পারিপাশ্বিক অবস্থার পরিপেক্ষিতে।সুখী হতে করণীয়

এবার আসল কথায় আসা যাক। বিয়ের পর প্রতিটি স্বামী-স্ত্রী চায় তাদের দাম্পত্য জিবন সুখের হোক এবং এ চাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু মাঝে মাঝে এ চাওয়াটা হয়ে ওঠে অকল্পনীয় বা অলীক কল্পনা।

এ অবস্থার সৃষ্টি হয় মূলত বোঝাপড়ার অভাবে, দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে, কল্পনায় সাজানো চাওয়ার মিলের অভাবে, অত্যাধিক ভালোবাসার ফলে, সংকীণ মানষিকতার ফলে। এ অবস্থার জন্য মুলত কেউ একা দায়ী নয়।

প্রতিটি মানুষই কল্পনা প্রবণ। স্বপ্ন সবাই দেখতে ভালবাসে। তাই সে সবাই কল্পনায় তার সংসার জীবনের প্রতিমুতি আঁকে। এক্ষেত্রে মেয়েরা সংসার জীবনটার পুরো পটভুমি তার যৌবনে এসে আকতে শুরু করে। এটা তার দোষ নয়। এটা তার আবেগ। মেয়েরা মনে মনে একজন “পারফেক্ট“, মানুষের ছবি কল্পনা করে। যেমন আমরা আগে বাংলা সিনেমায় দেখতাম।

তারা ভাবে ছেলেটা দেখতে হ্যান্ডসাম সুন্দর, কথা শুনে মুগ্ধ হওয়ার মতো, অমায়িক, কিছু না বলতেই সব বুঝে যায়, সে যা চায় সবই করতে দেয়, তাকে খুব খুব ভালোবাসে, না চাইতেই তাকে সব দিয়ে দিবে, সারাদিন শুধু তাকে নিয়েই থাকবে। আরো অনেক মানবিয় গুণের অধিকারী হবে তার স্মামী।

সুখী সংসার

কিন্তু বাস্তবই কি এমনই হবে এটা কে বলতে পারে। তার কল্পনার সাথে বাস্তবের মিলের ব্যবধান অনেক। কল্পনা আর বাস্তবের যখন মিল পাওয়া যায়না তখনই মনক্ষুন্ন হন অনেকে। এর ফলে দুজনের মতের মিলের পাথর্ক্য  দেখা দেয়, শুরু হয় অশান্তি। এটা লাভ ম্যারেজই হোক আর অ্যারেঞ্জ ম্যারেজই হোক। অ্যারেঞ্জ ম্যারেজের একজন অপরিচিত দুজন ছেলে মেয়ে এখানে কিছুটা বোঝাপড়ার বিষয় থাকে কিন্তু লাভ ম্যারেজ এর ক্ষেত্রে একটা চেনা জানা লোক যদি বিয়ের পরই বদলে যাওয়া দেখে অনেকে সেটা মেনে নিতে পারেনা।

এসময়ে অনেকে হতাশ বা ভেঙ্গে পড়ে, অনেকে ভাবে এর সাথে সংসার করা সম্ভব নয়। কিন্তু ভেঙ্গে না পড়ে এবংকিছু টেকনিক খাটিয়ে চললে এসব ঝামেলা বা অশান্তি এড়ানো শতভাগ সম্ভব। বিয়ের পর পরই সব থেকে যেটা বেশি প্রকট দেখা যায় তা হলো বোঝাপড়া অভাব। আবার সবার ক্ষেত্রে যে একই রকম সমস্যা হবে তা বলছি না। তবে বেশির ভাগই এটা হয়ে থাকে।

ভালোবাসার বন্ধন শুরু হওয়া মুহুর্তে  যেমন এক অন্যকে ইমপ্রেস করতে উদগ্রিব থাকে এখানে কিন্তু সেটা হয়না। এখানেই মেয়েদের সবচেয়ে বেশি অভিমান। মেয়েরা ভাবে আগে সে আমার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা এক জায়গায় দাড়িয়ে থাকতো , সে কোন দোষ না করেও সরি বলতো, আগে কিছু বললে সব ফেলে আমার টা করে দিতো এখন কেন নয়!

এমন ভাবনা চিন্তা যদি থাকে তবে সংসার নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বোধহয় সম্ভব নাও হতে পারে। বিয়ের পর সবারই ধারনার কিছু পরিবর্তন করা দরকার। ব্যক্তি কেন্দ্রীকতা থেকে সামগ্রিক কেন্দ্রীক হওয়া উচিত। তবেই সংসারে সুখের দেখা মিলবে।

বিয়ের পর সংসারিত জীবনে কিছু সমস্যা:

কিপটেমি স্বভাব:

প্রতিটি মেয়ে তার বাবা মার কাছে অনেক আদরের। তাই সে যা চায় শত কস্ট করে হলে ও বাবা মা তা পূরণ করে থাকে। কিন্তু স্বামীর বাড়িতে তার কিছু ব্যতয় ঘটবো এটাই স্বাভাবিক। যেখানে হাত ভরে খরচ করতেন, এখানে সেটা নাও হতে পারে। এখানে আপনার কিছু সমঝোতা ই পারে দাম্পত্য জীবন সুখের করতে। আপনার স্বামীর সামর্থ দেখুন আগে, পরিবারের ভরণপোষণ করতে সে কেমন ব্যয় করে, তারপর যদি তার সামর্থ থাকা সত্তেও যদি কার্পণ্য করে তাহলে তাকে বুঝিয়ে বলুন।

আপনিও সংসারের উন্নতি চান সেটা তাকে কথায় নয়, কাজে প্রমাণ দেখান এবং তার আস্থা অর্জন করুন। দেখবেন সব ঠিক হয়ে যাবে।

সংসার পরিচালনা ও সন্তান প্রতিপালনে যে অর্থ দরকার তা তাকে বুঝিয়ে বলুন। প্রয়োজনে দুজনে বসে আলোচনা করুন।

সংসার জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রয়োজন দুটোই জরুরী, এটা অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। আপনার দ্বারা অপচয় হবেনা এ আশ্বাস ও আস্থা অর্জন করুন। পরিবারের শান্তির জন্য আপনিও লড়তে পারেন, সে রকম সাপোর্টদিন। দেখবেন সংসারটা সুখের হবে।

সংসারে সুখী হতে চাই

সন্দেহ:

(লাইফস্টাইল এবার একটা গুরুত্বপূন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা হলো)

একটা সুন্দর সংসার খুব তাড়াতাড়ি নস্ট করে দিতে পারে সন্দেহবাতিক, সেটা যে পক্ষের ই হোক না কেন। এটা সংসার জীবনের জন্য খুবই মারাত্নক, তাই তা গোড়াতেই শেষ করা উচিত।

স্বামীর মনে কারণে যাতে সন্দেহ বাতিক না জাগে সে রকম আচার আচরণ করুন। তারপরও যদি কোন সন্দেহের আচ করতে পারেন তাহলে আপনার আচরনে আরো পরিবর্তন আনুন। তার সাথে খোলামেলা আলোচনা করুন, জেনে নিন আপনার কোন কাজ বা ব্যবহারটি তার অস্বাভারিক লাগে। তার পরিবর্তন করুন। নিজেদের প্রতি বিশ্বাস বাড়ান এবং দায়িত্বশীল হোন। আপনার কথায় যদি সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে আপনি রেগে যাবেন না। নিজেকে শান্ত রাখুন তার সাথে তক করা থেকে বিরত থাকুন। ঠান্ডা মাথায় বিষয়টি সমাধান করুন। এতে নিজেদের মধ্যে আস্থা বাড়বে।

তার কোন বিশেষ অভাববোধ থাকলে তা পুরণ করতে চেষ্টা করুন। স্বামী অফিসে যাওয়ার পর ফোন করে তার খোজ নিন। এসএমএস করে আপনার ভালোবাসা প্রকাশ করুন। সে যেন এটা বুঝতে পারে আপনি সব সময় তার পাশে আছেন।

আপনার স্বামী পাশে থাকা অবস্থায় ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। স্বামীর ও উচিত তাই করা। খুব প্রয়োজন না হলে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন না। বিশেষ দরকার হলে কাজটা সংক্ষিপ্ত করবেন। যতটা সময় দুজন কাছে থাকবেন নিজেদের নিয়ে থাকুন। দেখবেন ভালোবাসা বাড়বে এবং সুখের পরিধিও বেড়ে যাবে।

বদমেজাজী ভাব:

বিয়ের পর দেখা গেল স্বামী রাগী স্বভাব। এখন আপনার করণীয় কি? সে যদি অল্পতেই রেগে যায় তাহলে তার রাগের কারণ নিনয় করুন। যদি তার রাগের কারণ নেহাৎ হয়। তবে তাকে ঠান্ডা মাথায় বুঝিয়ে বলুন। দেখুন রাগারাগি করে কোন কিছুর সমাধান করা যায়।

সে রাগী বলে ভয় পাওয়া উচিত নয়। তার রাগের যুক্তিযুক্ত কারণ না থাকলে নিজেকে শক্ত করুন। তা না হলে এর কখনো সমাধান করা সম্ভব নয়।

সবাই ভালোবাসার কাঙ্গাল, তাই ভালোবেসে বুঝিয়ে বললে যে কোন সমস্যার ই সমাধান করা সম্ভব।

দায়িত্ব:

প্রতিটি সংসারে সবারই কিছু না দায়িত্ব রয়েছে। বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীর। সংসারটা দুজনেরই তাই দুজনে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। আপনার স্বামীর যদি দায়িত্বজ্ঞানের অভাব দেখেন তাহলে তা বিশ্লেষন করে দেখবেন আসলে মুল সমস্যা টা কোথায়।

তাকে কাজের দায়িত্ব দিন, কাজে তার মানসিকতা দেখুন, শুধু শুধু তার প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষন করা উচিত নয়।

যদি তার দায়িত্ব প্রতি অবহেলা থাকে। তাকে ছোট ছোট কাজ করতে দিন। যেমন: জামাকাপড় হ্যাংগারে রাখা, পানি তুলে খাওয়া ইত্যাদি।

দায়িত্ব নিয়ে তাকে জ্ঞান দিতে যাবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। কারো সামনে তার কাজের অবহেলা ঠাট্রা বিদ্রুপ করবেন।

এ বিষয়গুলো মেনে চলুন:

>>> স্বামীর সাথে এবং পরিবারের অন্যদের সাথে সব সময় হাসিখুশি মনে কথা বলুন।

>>> বাহিরের  লোকদের সাথে হাসিখুশি থাকুন।

>>> বাহিরের লোকদের সাথে মিশুন তবে অন্তরঙ্গ হওয়া থেকে বিরত থাকুন।

>>> স্বামীকে নিয়ে অন্যদের সামনে ঠাট্রা করা থেকে রিবত থাকুন।

>>> অন্য কেউ আপনার স্বামীকে নিয়ে ঠাট্রা করলে তা প্রশ্রয় দিবেন না।

>>> আপনার কোন কাজে যাতে আপনার স্বামী ছোট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

>>> সব সময় হাসি-খুশি থাকতে চেস্টা করুন।

>>> মাঝে মাঝে সময় করে স্বামী /স্ত্রী বেড়াতে যান, দারুন লাগবে।

>>> স্বামীর কোন কাজে যদি আপনি সহযোগিতা করতে পারেন তাহলে সম্পর্ক আরো মধুর হবে।

নিজে ভালো থাকুন অন্যকে ভালো থাকতে সহযোগিতা করুন।

Leave a Reply