নাক কান গলা

শীতে নাক কান গলা ব্যথা সারাতে আপনার করনীয়

রোগ-ব্যাধি

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

শীতকালের পরিবেশ শুস্ক পরিবেশ। বাতাসের আদ্রতা অনেক কম থাকে। বৃষ্টি হয়না বললেই চলে,,তাই প্রচুর ধুলোবালি উড়ে। শুস্ক পরিবেশ,ধুলোবালি, আবহাওয়ার বিপর্যয় ইত্যাদি কারণে শীতকালে নানা রোগ-ব্যধির প্রকোপ দেখা যায় বেশি। এসব রোগ-ব্যধির মধ্যে সবচেয়ে কমন যেগুলো তা হলো সর্দি, টনসিলে ব্যথা, গলা ব্যথা, খুসখুসে কাশি, অ্যাজমা সমস্যা,বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা যাকে চর্ম রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এছাড়া ও শীতকালে ঠান্ডার ফলে শিশুদের নিউমোনিয়া সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। এজন্য শিশুদের প্রতি একটু বাড়তি নজর দিতে হবে।নাক কান গলা

আসুন আজ আমরা জানবো শীতকালের নাক কান গলা সমস্যা সমুহ সস্পর্কে:

>>> শীতকাল ঠান্ডা আবহাওয়া- এসময়ে অতিরিক্ত ঠান্ডা লাগলে সর্দিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সাইনুসাইটিস সমস্যার ফলে কানে ব্যথা হয় এবং নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে পারে।

>>> শীতকালীন ঠান্ডা আবহাওয়ায় কাশির পরিমাণ বেড়ে যায়। কাশি হলে বুকে প্রচুর ব্যথা হয়। খুসখুসে কাশির ফলে ঘুমের সমস্যা হয়। পরিমান মতো ঘুম হয়না।

>>> ঠান্ডায় হাচি কাশি প্রকোপ বেশি থাকে। যাদের আগে থেকে এলার্জি জনিত সমস্যা আছে তাদের হাচি কাশি সমস্যা আরো বেশি হয়ে থাকে।স্বাস্থ্য নাক কান গলা হাচি

>>> বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ। শীতকাল কাল শুস্ক কাল তাই এসময়ে নানা কারণে গলা ব্যথা হতে পারে। যেমন: অতিরিক্ত ঠান্ডা, শীতে গরম কাপড় না পড়া, হটাৎ ঠান্ডা পানি পান করা ইত্যাদি।

>>> শীতাকালে অ্যাজমার প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। যাদের হাপানি রোগ আছে তারা একটু বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করা দরকার। তাহলে কিচুটা হলেও মুক্তি পেতে পারেন। অবস্থা বেগতিক হলে অবশ্যই ডাক্তার শরনাপন্ন হবেন। কারণ শীতকালে অ্যাজমার এট্যাক ও হতে পারে।

>>> শীতকালে এলার্জির জন্য চোখে কনজাঙ্কটিভা (Conjunctiva) আর এর প্রদাহ হতে পারে। কনজাঙ্কটিভা (Conjunctiva) আর এর প্রদাহ হলো চোখের গোলকের সাদা অংশ এবং চোখের পাতার ভিতরের অংশ পাতলা একটি স্বচ্ছ পর্দা দিয়ে ঘেরা থাকে।
>>> শীতকাল ঠান্ডা মৌসম। এ সময়ে ঠান্ডা লাগলে টনসিলে ইনফেকশন হতে পারে। ইনফেকশন হলে গলা ব্যথাসহ জ্বর আসতে পারে। এসমস্যায় উপনিত হলে দৈনদিন কাজের ব্যাঘাত সহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।

>>> আমাদের দেশে শীতকালে বেশি কস্ট পায় বয়স্ক লোকেরা। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। খাদ্য গ্রহণ ঠিকমতো করতে পারেনা বিবিধ কারণে তাদের উপর শীতের এ্যাটকটা বেশি হয়ে থাকে। তাই পরিবারের অন্যদের থেকে বয়স্কদের প্রতি একটু বাড়তি নজর দিতে হবে। তাহলে তারা সুস্থ্য ও থাকবে আবার শান্তিতে থাকবে।

>>> ছোট্র সোনা মনিরা পরিবারের কলিজা। এসময়ে ছোট্র বাবুদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। ছোট্র সোনা মনিদের রোগ-প্রতিরোগ ক্ষমতা কম থাকে ফলে তারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। নিজেদের যত্ন করতে পারেনা বলে তারা ঠান্ডায় আক্রান্ত হতে পারে। শিশুদের নিউমোনিয়া আক্রান্ত হবার ঝুকি থাকে সবচেয়ে বেশি।তাই তাদের কখনো ঠান্ডা পানি, আইসক্রিম, ঠান্ডা জুস, বরফ পানি ইত্যাদি খেতে দেয়া যাবেনা।

>>>শীতকাল বড়দের ও ছোট্র সোনামনিরে একটি কমন সমস্যা হলো সর্দিতে আক্রান্ত হওয়া । এটি বেশ বিরত্তিকর একটি ব্যাপার। এটি ভাইরাস জনিত সমস্যা । এ পরিস্থিতিতে আপনি সুপ খেতে পারেন। সুপ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে থাকে।

শীতকাল ঋতু বৈচিত্রের একটি সুন্দর কাল। তবে এ সময়ে বিভিন্ন রোগের উপদ্ভব হতে পারে। সচেতনতাই পারে আমাদের এ সকল সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে।

>>> শীতকালে প্রচুর পরিমাণে ফল-মুল, শাক-সবজি পাওয়া যায়। পিঠা ফুলি, খেজুরের রস, নানা রকমের ফলমুল ইত্যাদি প্রাকৃতিক খাবার সহজে মিলে। টাটকা সবুজ শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খাবেন। এতে রোগ বালাই এর প্রকোপ কমবে।

শীতকালে সমস্যা

শীতকালে এসব সমস্যা থেকে প্রতিকার পেতে কি করবেন?

>>> বাসার কাপেটে ধুলোবালি ‍মুক্ত রাখবেন, নচে আপনি সমস্যায় পড়বেই।

>>> রাস্তায় চলা ফেরার সময় নাকে মুখে যাতে ধুলোবালি ঢুকতে না পারে সেজন্য মাস্ক ব্যবহার করবেন।

>>> ঠান্ডা জাতীয় কিছু  পান করা থেকে বিরত থাকবেন। একটু  কস্ট করে হলেও  খাবার গরম করে খাবেন।

>>> আইসক্রিম, বরফ পানি, ঠান্ড জুস, কোল্ড ডিংস পান করা থেকে বিরত থাকবেন।

>>>  আরেকটি বিষয়, শিশুর সদি কিন্তু সে বলছে তার কান ব্যথা করচে, তাহলে তাকে দ্রুত  নাক কান গলা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। নয়তো সদিতে কানে প্রদাহ হয়ে মাত্র ২৪ ঘন্টায় কানের পদা ফুটো হয়ে যেতে পারে।

>>> শরীর গরম রাখতে গরম কাপড় পরিধান করুন।

>>> কুসুম কুসুম গরম পানিতে গোসল করুন। অনেকে কয়েকদিন পর পর গোসল করে এটা ঠিক না।

বি:দ্র: যদি দেখা যায় সর্দিটা যদি এরকম হয় , যেমন: সর্দিটা একটু হলুদাভ রঙের হয়ে যাচ্ছে, পেকে যাচ্ছে বা আরো বেশি আঠালো হচ্ছে এবং সহজে সেটি যাচ্ছে না, তখন একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

পরিশেষে বলা ভালো, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

Leave a Reply