প্রবীণদের স্বাস্থ্য

প্রবীনদের স্বাস্থ্য

Your ads will be inserted here by

Easy Plugin for AdSense.

Please go to the plugin admin page to
Paste your ad code OR
Suppress this ad slot.

তরুন বয়সে সবাই বার্ধক্য কে ভুলে যায়, কারো হয়তো কখনো মনেই হয়না, তার জীবদ্দশায় সে বার্ধক্য কে উপনীত হবে। কিন্তু মানব জিবনের এক অমোঘ সত্য হলো বার্ধক্য । যদি কারো অল্প বয়সে মৃত্যু না হয় তাহলে তার জীবনের শেষ অধ্যায়ে অর্থাৎ তাকে বার্ধক্যে উপনীত হতে হবে। এ সময়টা জীবনের শেষ অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

>>> বার্ধক্যে মানব শরীরে কিছু স্বাভাবিক পরিবর্তন আসে। এদের মধ্যে সবচেয়ে কমন যে ব্যাপারগুলো আমরা লক্ষ্য করি সেগুলো হলো: চুল পাকা, ত্বকে বলি রেখা, বা ত্বক কুচকে যাওয়া, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীন হয়ে যাওয়া, কানে কম শোনা, শরীরের পেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে, স্মৃতিশক্তি কমে যায়, হাড়ের ক্ষয় হয়, লিভার ও কিডনি দুর্বল হয়ে পড়ে। খাওয়া দাওয়া অরুচি ধরে এবং সব থেকে যেটা বেশি পরিলক্ষিত হয় সেটা হলো ঘুম কম হয়। বলতে গেলে জরা গ্রস্থ হয়ে পড়ে শরীরের প্রতিটি অঙ্গপ্রতঙ্গ।

প্রবীনদের স্বাস্থ্য

>>> বার্ধক্যে শরীরের সেই তারণ্যদীপ্ত কার্যক্ষতা আর পাওয়া যায়না। নানাবিধ রোগ, দুর্বলতা তাকে চেপে বসে। প্রাকৃতিক ভাবেই শরীর বার্ধক্যকে উপনীত হওয়ার ফলে কিছু রোগ আকড়ে ধরে। এ সময়ে তাদের শরীরের রক্তপ্রবাহের নালীগুলো চিকন হয়ে যাওয়ার ফলে হৃদরোগ, স্টোক, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।

>>> তারণ্যে সে যে তুখোড় বুদ্ধিদীপ্ত ব্যক্তিটি প্রবীনে এসে অনেকটা ঝিমিয়ে যায়, মস্তিকের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যায়। ডিমেনসিয়াতে আক্রান্ত হয়।

>>> শরীরের হিউমিনিটি সিস্টেম দুর্রল হওয়ার কারণে তারা সহজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা অনুভব করে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় যে, সামান্য আঘাতেই হাত বা পায়ের হাড় ভেঙে যায়, মেরুদন্ডের হাড়ে ব্যথা অনুভব করে। হাটুতে , কোমড়ে ব্যথা ছাড়াও তারা হাটা চলায় বিশেষ অসুবিধায় পড়ে।

>>> প্রবীনদের আবেগ-অনুভুতি, চিন্তাশক্তি, বিচারবুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি অনেকটাই কমে যায়। এছাড়াও প্রবীনদের কিছু কমন ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়,,, তা হলো হাত-পা কাঁপা, মাথা ঘোরা। অনেক ক্ষেত্রে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়ে মারাত্বক আঘাত পেয়ে বসে।

>>> পুরুষদের প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দেয়, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হয়, প্রস্র্রাব করতে অনেক সময় নেয়, প্রস্রাব ধারণ ক্ষমতা কমে যায়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রস্রাব হয়না। প্রস্রাবে অনেক কস্ট সহ্য করতে হয়। অনেক সময় মুত্র থলি পুলে যায়।

>>> এছাড়াও হিউমিনিটি সিস্টেম দুর্বল হওয়ার ফলে তাদের বিভিন্ন ধরনের ক্যানন্সার ও হতে পারে। শরীরে বিভিন্ন ধরনের ফ্যাকচার দেখা দেয়, চামড়ায় ইনফেকশন হয়। আবার সমান্য ঠান্ডায় তাদের ঠান্ডা লেগে যায়।

old man

>>> একটা সময়ে এসে তাদের শরীর এতোটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে বিছানা থেকে উঠতে পারে না। এ সময়টা হয়ে যায় সে ছোট বেলার ছোট্র বাবুটার মত, যে সময়ে সে সামান্য ঠান্ডায় কাশি হতো, সামান্য ব্যথা পেলে ফুলে যেত, একটু ব্যতিক্রমি খাবারে পেট খারাপ করতো, বলতে পারতো না কিছু হলে শুধু কেদে দিত। বিছানায় প্রস্রাব পায়খানা করতো।

এখানে শুধু এটুকু পার্থক্য,,, সে সময়ের ছোট বাবুটার ত্বক থাকে মৃসন, সাইজে হয় ছোট্র, আর মিস্টি ফুটফুটে,,, আর বার্ধক্যকে উপনীত ছোট বাবুটার ত্বক হয়ে যায় খসখসে, উসকো খুসকো, খিটখিটে মেজাজের বুড়ো।

আমাদের সমাজে প্রবীনরা বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত, বলা যায় আজকের প্রবীনরা শরীরিক, মনস্তাত্বিক, পারিবারিক, সামাজিক, রাস্ট্রিয়ভাবে সমস্যার মুখোমুখি। এগুলোর কোনটাই আজও প্রবীনদের জন্য সহায়ক হয়ে ওঠেনি। প্রবীনরা বার্ধক্যকে উপনীত হলে- তাদের মাঝে অসহায়ত্ব, পরনিভরশীলতা, শারীরিক ভাবে দুর্বল এসবই তাদের মানসিক পীড়া আরো দ্বিগুন করে দেয়। মাঝে মাঝে তারা এমন কিছু আচরণ করে যা তাদের কে দ্বিতীয় শিশু বলে আখ্যায়িত করা যায়। তাদের অনেকেই বিষন্নতায় ভোগেন। আজকের প্রবীনরা পারিবার থেকে শুরু করে রাস্ট্রিয় ভাবেও অবহেলার শিকার। পরিবার থেকে তাদের অবহেলা শুরু হয়। অনেকে তো বৃদ্ধ মা-বাবাকে বোঝা মনে করে। তাই অনেক সময় অভিমান করে তারা সবার থেকে নিজেকে আড়াল করে। অনেক সময় তারা নি:সঙ্গ থাকেন যার ফলে তারা মানসিক সমস্যায় বেশি ভোগেন।

পরিবারের অবহেলা একজন প্রবীনের জন্য খুবই বেদনাদায়ক। কারণ যে মা-বাবা তাকে বড় করলো,, আদর যত্ন করে তুললো সে যদি তাকে অবহেলা করে তাহলে সে কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে?

যে ছেলেটা বা যে মেয়েটা আজ তার বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করতেছে,,, সে যদি পিছনে ফিরে তাকায় তাহলে তার ছোট্র বেলার কথা মনে করুক, যখন সে ছোট্র ছিল, অসহায় ছিল, তখন যদি তাকে অবহেলা করে ফেলে রাখতো তাহলে সে আজ সমাজে মাথা উচু করে দাড়ানো দুরে থাক, তার বেঁচে থাকায় অসম্ভব হয়ে পড়তো। আজ তার মা-বাবার বৃদ্ধ বয়সে বলা যায় অসহায়ত্বে তাকে অবহেলা করা, কিসের পরিচয়? যারা এমন করতেছ তারা কি ভাবে না তারাও একদিন এ অবস্থায় উপনীত হবে। তখন তো তারাও এ অবহেলার স্বীকার হবে। কারণ কর্মের পরিণতি তো তাকে ভোগ করতেই হবে। ভেবে দেখ কেমন লাগবে তখন। যা এখন এই বৃদ্ধ ভোগ করতেছেন।

আমাদের দেশে প্রবীনদের আরো একটা বড় সমস্যা হলো স্বাস্থ্যগত সমস্যা। এ সমস্যার অন্যতম কারণ এদেশে প্রবীনদের চিকিৎসার অভাব। আমাদের দেশে প্রবীনদের তেমন চিকিৎসার ব্যবস্থা নাই, আর যে টুকু আছে তা পযান্ত নয় এবং তা অনেকটাই সীমিত। গ্রামে তো আরো বেশি সংকট।

শহরে প্রবীনরা অনেকটা সচ্চল থাকলেও গ্রামের প্রবীনরা সবাই অতোটা সচ্চল নয়। শহুরে প্রবীনদের আর্থিক সচ্চলতা থাকলেও তারা মানসিক ভাবে অবহেলিত। তারা নি:সঙ্গতা বেশি অনুভব করে, পরিবারের লোকজন তাদের সময় দেয়না। তারা বেশির ভাগই পারিবারিক দিক থেকে অবহেলিত। আর গ্রামের প্রবীনরা আর্থিক ভাবে অসচ্চল ফলে তারা বেশি সমস্যায় পড়ে শারীরিক । শারীরিক অসুস্থতায় তারা ভোগেন বেশি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে এবং আর্থিক অসচ্চলতার দরুন তাদের কস্ট পেতে হয়।

চিকিৎসা শাস্ত্রে প্রবীনদের জন্য একটি বিশেষ শাখা রয়েছে। সব রোগ সব বয়সে নয়, অনেক ক্ষেত্রে কিচু রোগ আছে যা শুধু প্রবীনদেরই হতে পারে। প্রবীনদের চিকিৎসা প্রদ্ধতি, রোগের ধরন, রোগের তীব্রতা অন্যদের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। তাদের ঔষধ ও সেবা প্দ্ধতি সাধারণ থেকে আলাদা। তারা তো অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের মতো তাদের রোগের কথা বলতেও পারেন না। অনেক জটিল রোগের উপসর্গ তাদের কাছে স্বাভাবিক ভাবে অবসাদ, দুর্বলতা মতো সমস্যার মতো মনে হয়। আর একারণে বিশেষ বিভাগে প্রবীনদের প্রতিটি বিষয় গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষন করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারেণে রোগ শনাক্ত ও নিরাময় করা হয়ে ওঠে না।প্রবীন হাসপাতাল

প্রবীনদের জন্য করণীয়

আপনার আদরের ছোট্র বাবুটি একটু কাঁদলে যেমন আপনার খুব বেশি কষ্ট হয়, তেমনি একদিন আপনি আপনার বাবা মায়ের কাছে সেই ছোট্র বাবুটি ছিলেন, আপনার কান্নায় তাদেরও তেমন কষ্ট হতো। তাহলে আজ কেন তাদের কান্নায় আপনার কষ্ট হচ্চে না?

প্রবীনরা আমাদের দেহের একটি অংশ। এদেরকে কোন ভাবেই আমরা অবহেলা করতে পারিনা। তারা আমাদের অগ্রজ, অনুকরণীয়, মাথার ছাতা। তার সাধনা, কষ্ট, ত্যাগ-তিতিক্ষা আজ আমাদেরকে এমন একটা পজিশনে এনে দিয়েছে। জীবনে অনেক প্রতিকুল পরিবেশ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে সাধ্যমত আমাদের অবস্থানকে সুন্দর করে গেছে। আমাদের ও উচিত এই অবস্থার আরো উন্নয়ন করা। আর অগ্রজদেরকে ভালবাসায়, মমতায়, সহযোগিতায় আপন করে কাছে রাখা। তাদের যে সমস্যাগুলো রয়েছে তার সুষ্ঠ সমাধান করা।

এটা ভুলে গেছে চলবেনা আমরা একদিন প্রবীনের কাতারে দাড়াতে হবে। এখনই যদি তাদের জন্য কিছু করে না যাই তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজ্জম্ম আমাদের জন্য কিছু করবে এ আশা আমরা কেমনে করতে পারি। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে পথ দেখাবো তারা এই পথটাকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলবে সেটা আশা করা যায়।

প্রথমে আমরা পরিবার থেকেই শুরু করি- যেকোনে পরিবারে যেন আমাদের মমতার বন্ধন অটুট থাকে। প্রবীনদের একটু সময় দিন। যেকোন অনুষ্ঠানে তাদের কাছে রাখুন, মমতার হাত বাড়ান, তাদের সাথে একান্ত কিছু সময় কাটান তাদের সমস্যা জানতে ও সমাধান করতে সচেষ্ট হোন। তাদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

এখানে দেখা যায় অনেকে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করে বা করতে চেষ্ঠা করে। কিন্তু এ করাটা কতটুকু । ছোট বেলার ভাবসম্প্রসারণের সেই উক্তিটার মতো: শৈবাল দীঘিরে কহে উচ্চ করে শির, লিখে রেখো, এক বিন্দু দিলাম শিশির।

আমাদের কিছু করাটা হলো দীঘিরে এক বিন্দু শিশির দেওয়ার মতো।

আমাদের এই প্রবীনদের জন্য সরকারের অনেক অগ্রনী ভুমিকা থাকা দরকার। সরকারি অবস্থান থেকে প্রবীনদের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়ানো হোক। বিশেষ করে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রবীনদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার চিকিৎসা সেবা চালু করা হোক। প্রতিটি সরকারী হাসপাতালে প্রবীনদের নিমিত্তে আলাদা শাখা ও বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার নিয়োগ করা হোক। প্রবীনরাই একদিন তরুন বয়সে দেশের কল্যাণে নিবেদিত ছিল। তেমনি আমরা তাদের কল্যানে আজ কিছু করি, এই ভাবনা হোক সবার অন্তরে। তাদের জন্য ঔষধ পথ্য ও সরঞ্জামদির ব্যবস্থা সহজ লভ্য ও কম দামে পাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

দেশের প্রতিটি সেক্টর থেকে প্রবীনদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসুন। একটা প্রবীনের চোখেও আমরা অশ্রু দেখতে চাইনা এই দৃঢ়তা যদি আমাদের মাঝে প্রতিষ্ঠিত করতে পারি তাহলে আমাদের এই অগ্রজরা একটু সুস্থতায়, ভালোবাসায় জীবনের শেষদিনগুলো কাটাতে পারবে।

প্রবীনরা আমাদের বোঝা নয় সম্পদ। তারা যেন কখনই অবহেলার স্বীকার না হয়। সেদিকে সদা দৃষ্টি রাখুন।

নিজে ভালো থাকুন, অন্যকে ভাল থাকতে সহযোগিতা করুন।

Leave a Reply